কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM Kisan Samman Nidhi) যোজনার মাধ্যমে দেশের যোগ্য কৃষক পরিবারগুলোকে প্রতি বছর ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। আপনি যদি এখনও এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত না করে থাকেন, তবে ২০২৬ সালে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের সাহায্যে কীভাবে নতুন রেজিস্ট্রেশন করবেন, প্রয়োজনীয় নথি এবং আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করার সম্পূর্ণ নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো।
| বিষয় (Overview) | তথ্য (Details) |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-Kisan) |
| আর্থিক সুবিধা | বছরে ₹৬,০০০ (প্রতি ৪ মাস অন্তর ₹২,০০০ করে ৩টি কিস্তিতে) |
| টাকা পাঠানোর মাধ্যম | ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT via Aadhaar) |
| আবেদন পদ্ধতি | অনলাইন পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, সিএসসি (CSC) ও পঞ্চায়েত/কৃষি কর্মকর্তা |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | pmkisan.gov.in |
PM Kisan Registration কী?
পিএম কিষাণ রেজিস্ট্রেশন হলো প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার আওতায় সুবিধা পাওয়ার প্রথম ও বাধ্যতামূলক একটি নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষক পরিবারের তথ্য সরকারি পোর্টালে নিবন্ধিত হয়। একবার আবেদন অনুমোদিত হয়ে গেলে, বছরে তিনটি কিস্তিতে ₹২,০০০ করে মোট ₹৬,০০০ টাকা সরাসরি কৃষকের আধার-লিঙ্কযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এটি একটি এককালীন (One-time) রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া।
কারা আবেদন করতে পারবেন? (Eligibility Criteria)
- কৃষক পরিবার: স্বামী, স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানদের নিয়ে গঠিত কৃষক পরিবার যাদের নামে রাজ্য সরকারের ভূমি রেকর্ডে চাষযোগ্য জমি রয়েছে।
- জমির মালিকানা রেকর্ড: আবেদনকারী কৃষকের নামে ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখের পূর্বে জমি নিবন্ধিত থাকতে হবে।
- নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে।
- আধার ও ব্যাঙ্ক সংযোগ: পরিবারের সকল সদস্যের আধার কার্ড থাকা আবশ্যক এবং আবেদনকারীর অ্যাক্টিভ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সাথে লিঙ্ক থাকতে হবে।
- e-KYC সম্পন্নকরণ: আবেদনকারীর e-KYC প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
বিশেষ সতর্কবার্তা (১৪টি রাজ্যের কৃষকদের জন্য):
অ্যাগ্রিস্ট্যাক (AgriStack) ও ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশনের অধীনে ১৪টি রাজ্যের নতুন রেজিস্ট্রেশনের জন্য ফার্মার আইডি (Kisan Pehchaan Patra) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
রাজ্যগুলি হলো: অন্ধ্রপ্রদেশ, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, গুজরাট, কর্ণাটক, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশ।
আপনি যদি এই ১৪টি রাজ্যের বাসিন্দা হন এবং এখনও ফারমার আইডি না তৈরি করে থাকেন, তবে আপনার ২৩তম কিস্তির টাকা পেতে বিলম্ব হতে পারে। অবিলম্বে নিকটস্থ CSC বা ব্লক কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required):
রেজিস্ট্রেশন শুরু করার আগে নিচের নথিগুলি গুছিয়ে রাখুন:
- আধার কার্ড (পরিবারের সকল সদস্যের জন্য বাধ্যতামূলক)
- IFSC কোডসহ ব্যাঙ্ক পাসবুকের কপি
- জমির তথ্য (খতিয়ান, খতিউনি, দাগ নম্বর, সার্ভে নম্বর বা 7/12 এক্সট্যাক্ট)
- নাগরিকত্বের প্রমাণ (ভোটার কার্ড, আধার বা আবাসিক সনদপত্র)
- আধারের সাথে যুক্ত মোবাইল নম্বর (OTP ভেরিফিকেশনের জন্য)
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- ফার্মার আইডি / কিষাণ পেহচান পত্র (উল্লেখিত ১৪টি রাজ্যের জন্য)
- ঐচ্ছিক নথি: রেশন কার্ড, মনরেগা জব কার্ড বা প্যান কার্ড (প্রয়োজন সাপেক্ষে)।
PM Kisan Yojana: আবেদনের পদ্ধতি (Step-by-Step How to Apply):
কৃষক ভাইয়েরা মূলত ৪টি উপায়ে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন:
১. অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন (Step-by-Step Process):
- Step-1: পিএম কিষাণ অফিশিয়াল ওয়েবসাইট pmkisan.gov.in-এ যান। (নীচে important link সেকশন থেকে official Website ও আবেদন করার সরাসরি লিঙ্ক পেয়ে যাবেন)
- Step-2: হোমপেজের “Farmers Corner” সেকশনে নিচে স্ক্রোল করে “New Farmer Registration” অপশনে ক্লিক করুন।
- Step-3: জমি যেখানে অবস্থিত সেই অনুযায়ী “Rural Farmer Registration” (গ্রামীণ) অথবা “Urban Farmer Registration” (শহরাঞ্চল) নির্বাচন করুন।
- Step-4: আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং রাজ্য সিলেক্ট করে ক্যাপচা কোডটি দিয়ে “Search” বোতামে ক্লিক করুন।
- Step-5: “Do you want to register yourself?” পপ-আপ মেসেজে “Yes” অপশনে ক্লিক করুন।
- Step-6: আবেদন ফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও IFSC কোড এবং জমির তথ্য (খতিয়ান/খতিউনি/দাগ নম্বর) সঠিকভাবে টাইপ করুন।
- Step-7: প্রয়োজনীয় স্ক্যান করা নথিপত্র আপলোড করে “Submit” বোতামে ক্লিক করুন।
- Step-8: স্ক্রিনে ভেসে ওঠা PM Kisan Registration Number-টি ভবিষ্যৎ স্ট্যাটাস চেকের জন্য স্ক্রিনশট বা নোট করে রাখুন।
২. সিএসসি (CSC Center / Jan Seva Kendra) কেন্দ্রে আবেদন:
- আপনার নিকটস্থ CSC কেন্দ্রে আধার কার্ড, ব্যাংক পাসবুক এবং জমির নথি নিয়ে যান।
- সিএসসি অপারেটরকে পিএম কিষাণ রেজিস্ট্রেশনের কথা বলুন।
- অপারেটর আপনার হয়ে ফর্মটি পূরণ করবেন। জমা দেওয়ার আগে তথ্যগুলো মিলিয়ে নিন।
- আবেদন শেষে রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ একটি প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ (Acknowledgement slip) সংগ্রহ করুন। (CSC সার্ভিস ফি হিসেবে ₹১৫–₹৩০ প্রদান করতে হতে পারে)।
৩. মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন (PMKISAN GoI App):
- Google Play Store বা App Store থেকে সরকারি “PMKISAN GoI” অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
- ভাষা নির্বাচন করে “New Farmer Registration” নির্বাচন করুন।
- আধার নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে “Continue” বোতামে ক্লিক করুন।
- ফর্মের সকল তথ্য পূরণের পর অ্যাপের Face Authentication ফিচারের মাধ্যমে সহজেই নিজের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করে ফর্ম জমা দিন।
৪. গ্রাম পঞ্চায়েত / লেখপাল / পাটোয়ারী / কৃষি সহায়কের মাধ্যমে:
- আপনার এলাকার পাটোয়ারী, লেখপাল বা কৃষি সহায়ক কর্মকর্তার কাছে আধার, ব্যাঙ্ক পাসবুক ও জমির রসিদ নিয়ে যোগাযোগ করুন।
- তাদের কাছে পূরণ করা ফর্ম ও নথি জমা দিলে তারা অফিশিয়াল লগইন থেকে আপনার আবেদন পোর্টালে আপলোড করে দেবেন এবং একটি লিখিত রসিদ প্রদান করবেন।
আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে? (How to Check Status):
- ১. pmkisan.gov.in পোর্টালে প্রবেশ করুন।
- ২. ‘Farmers Corner’-এর অধীনে “Status of Self Registered Farmer / CSC Farmer” অপশনে ক্লিক করুন।
- ৩. আপনার আধার নম্বর অথবা প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি বসান।
- ৪. ক্যাপচা কোড দিয়ে “Search” বোতামে ক্লিক করলেই আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন।
আবেদন করার পর কী ঘটে? (What Happens After Registration?):
- রাজ্য পর্যায়ে যাচাই: আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্যসমূহ রাজ্য সরকারের কাছে প্রেরিত হয়।
- জমি যাচাই: স্থানীয় লেখপাল বা পাটোয়ারী আপনার জমির রেকর্ড ও মালিকানা যাচাই করেন।
- অনুমোদন ও নাম প্রকাশ: তথ্য সঠিক থাকলে আবেদনটি কেন্দ্রীয় পোর্টালে অনুমোদিত হয় এবং চূড়ান্ত বেনিফিশিয়ারি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- টাকা জমা: পরবর্তী কিস্তির ₹২,০০০ টাকা সরাসরি আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
- জরুরি নোটিশ: রেজিস্ট্রেশন অনুমোদিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে e-KYC সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় আবেদন মঞ্জুর হলেও টাকা আটকে যেতে পারে।
PM Kisan e-KYC কী এবং কেন এটি প্রয়োজনীয়?
- পিএম কিষাণ e-KYC হলো আধার ভিত্তিক একটি এককালীন পরিচয় যাচাইকরণ পদ্ধতি।
- এটি সম্পন্ন না করলে কোনো কৃষকই কিস্তির ₹২,০০০ টাকা পাবেন না।
- OTP, বায়োমেট্রিক বা Face Authentication-এর মাধ্যমে ২ মিনিটেই e-KYC সম্পন্ন করা যায়।
- জালিয়াতি বা ভুয়া আবেদনকারী বাদ দিয়ে প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই সরকার e-KYC বাধ্যতামূলক করেছে।
e-KYC কিভাবে করবেন নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে বাংলায় official guidelines পড়ে জেনে নিন।
Important Links(গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক):
- Official Website: pmkisan.gov.in
- Online Registration Direct Link: এখানে ক্লিক করুন (New Registration)
- Application Status জানুন: এখানে ক্লিক করুন (Know Your Status)
- e-KYC করার জন্য Official Guidelines(বাংলা): ডাউনলোড করুন (PDF)
ডিসক্লেমার (Disclaimer): ‘Birbhum Career’ কোনো সরকারি সংস্থা নয়। সাধারণ পাঠকদের সহায়তার জন্য এই আর্টিকেলে শুধুমাত্র তথ্যমূলক বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। আবেদন করার পূর্বে বা বিস্তারিত জানতে সবসময় কেন্দ্রীয় সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (pmkisan.gov.in) ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিয়মিত চাকরির খবর ও সরকারি প্রকল্পের আপডেট পেতে সাথে থাকুন!
প্রতিদিনের নতুন নতুন চাকরির খবর, স্কলারশিপ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সহজ-সরল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন আমাদের অফিশিয়াল ওয়েবাসাইট BirbhumCareer.in। সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
1 thought on “PM Kisan Registration 2026: অনলাইনে নতুন আবেদন ও স্ট্যাটাস চেক করার সহজ উপায়”